নিজস্ব প্রতিবেদক
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় মাল্টা ও লেবু চাষে ভাগ্যবদল করেছেন শরীফ। টানাপোড়েনের সংসারে বড় হওয়া শরীফ ভাগ্যবদলে সৌদি যান। কিন্তু সেখানে ভালো আয় রোজগার না হওয়ায় দেশে ফিরে এলাকায় মাল্টা, ড্রাগন ও লেবু চাষ করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন। উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় ৫ একর জমিতে তিনি মিশ্র পদ্ধতিতে এ ফল বাগানের উদ্যোগ নেন।
২০২৩ সালে উদ্যোক্তা শরীফ প্রথমবারের মতো ১৬০ শতাংশ জমিতে ভিয়েতনামি বারোমাসি উচ্চ ফলনশীল ও সুস্বাদু মিষ্টি এবং রসালো সাইট্রাস জাতের মাল্টা চাষ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। মাল্টায় সফলতার পর এবার ড্রাগন চাষ শুরু করেছেন তিনি। ফলের বাগানের মাঝে তৈরিকৃত গভীর নালার মধ্যে বিভিন্ন জাতের মাছ ও নালার পাড়ে শাকসবজিও আবাদ করে ভালো আয় করছেন তিনি। শরীফের বাড়ি রসুলপুর ইউনিয়নের ফরাজিরহাট বাজার সংলগ্ন এলাকায়। তিনি দীর্ঘদিন সৌদি আরবে ফ্রি ভিসায় বিভিন্ন কাজের পাশাপাশি ফলের বাগানেও কাজ করতেন।
রসুলপুরে নিজ বাড়ি সংলগ্ন এলাকায় ৪৮০ শতাংশ জমিতে শরীফ গড়ে তুলেছেন তার এ মিশ্র খামার। এখানে সাইট্রাস মাল্টার গাছ আছে ১ হাজার ৫০০। তিন বছর বয়সি এ গাছগুলো থোকায় থোকায় ফল দিচ্ছে। প্রতি মাল্টা গাছে ফলন হচ্ছেÑপ্রায় ৬০ কেজি। বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা কেজিতে। এছাড়াও তার খামারে চার বছর বয়সি প্রায় ৭ হাজার ড্রাগন ফলের গাছ রয়েছে। এখান থেকে তিনি ১ বছরে ৬ লাখ টাকার ড্রাগন বিক্রি করেন। চলতি বছর ড্রাগন বাগান থেকে ১৫ লাখ টাকার ড্রাগন বিক্রির আশা করেন।
সম্প্রতি বাগান ঘুরে দেখতে গেলে শরীফ আমার দেশকে জানান, বিদেশ থেকে ফিরে বেকার বসে না থেকে এলাকার বেকার ছেলেদের নিয়ে একটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্দেশে এ ফলের বাগান করেছি। তিনি ঘুরে দেখান বিভিন্ন জাতের মাল্টা ড্রাগন ও পেয়ারা এবং লেবুগাছ। থোকায় থোকায় ঝুলে থাকা মাল্টা ও লেবু দেখিয়ে শরীফ জানাচ্ছিলেন চাষের পদ্ধতিও। তিনি বলেন, উঁচু জমিতে বেলে দো-আঁশ মাটিতে জৈব সার, কীটনাশক ও সঠিক পরিচর্যা করে তিনি চাষ করেন।